BIGtheme.net http://bigtheme.net/ecommerce/opencart OpenCart Templates
Home > বিবিধ > স্ত্রীকে পরকীয়া থেকে বাঁচাতে স্বামীর করনীয়

স্ত্রীকে পরকীয়া থেকে বাঁচাতে স্বামীর করনীয়

স্বামীকে পরকীয়া থেকে বাঁচানোর কৌশল নারীদের শিক্ষা দেয়া নিয়ে অনেক লেখালেখি হয় বিভন্ন পত্র পত্রিকায় । কিন্তু স্ত্রীকে পরকীয়া থেকে বাঁচানোর কৌশল পুরুষদের জানা দরকার সে বিষয়ে কেউ কথায় বলে না । যেন এই কৌশল সেখার কোন দরকারই নেই পুরুষদের !

স্ত্রী যাতে পরকীয়ায় আসক্ত না থাকে এবং সে যেন আবার পবিত্র দাম্পত্য জীবনে ফিরে আসে শুধু আপনি ছাড়া আর কারও সংস্পর্শে না যায় দৈহিক ও মানসিক চাহিদার তাগিদে তা খেয়াল করুন এবং এমন স্ত্রীকে এই দশা থেকে ফেরাতে চেষ্টা করুন । চলুন দেখি স্ত্রীকে পরকীয়া থেকে বাঁচানোর কৌশল গুলো কি কি?

১) স্ত্রীকে সময় দিনঃ

অধিকাংশ পুরুষ নিজের চাকুরী, ক্যারিয়ার বা ব্যবসা নিয়ে এতো ব্যস্ত হয়ে পরে যে স্ত্রীকে একটু সময় দেয়ার মতো সময় তার হাতে নেই । সারাদিন বাসার বাইরে থাকার পর রাতে একটু বাসায় ফেরার পর দেখা যায় স্ত্রী- সন্তানকে সময় দেয়া কি স্ত্রী সন্তান একটু কাছে ঘেঁষে একটু সময় একটু ভালোবাসা সুলভ আচরণ প্রত্যাশা করলে সেটাকে বাড়াবাড়ি ভেবে বসেন । স্ত্রীর আঁচলের নিচে সময় কাটানোর সময় তার হাতে নেই । এমনটাও অনেকে সদর্পে বলে থাকেন । অকারনে স্ত্রীর সতীত্ব নিয়ে সন্দেহ করবেন না ।

২) স্ত্রীকে বেশী বেশী ভালবাসুনঃ

স্ত্রীকে অনেক অনেক বেশী ভালবাসুন । শুধু মনে মনে এমনভাবে ভালোবেসে যাবেন না যে স্ত্রী বুঝেই না যে আপনি তাকে ভালোবাসেন । আপনার আচরণ, কথা সব কিছুতেই যেন ভালোবাসার প্রকাশ ঘটে । কারণ অনেক স্বামী এমন আছে যে মুখে বলে ভালোবাসে স্ত্রীকে অনেক ভালোবাসে; কিন্তু কাজের সময় দেকাহ যায় যে স্ত্রীকে ধুমকি-ধামকির মধ্যে রাখে, বিনা কারণে তাকে বকা-ঝকা করে, তার কথার কোন মূল্যায়ন করে না । আবার অনেক স্বামী এমন আছে যে স্ত্রীকে শুধু মনে মনে বোকার মতোই ভালোবেসে গেল । এতোটাই লাজুক ও অন্তর্মুখী স্বভাবের যে স্ত্রী বুঝেই না তরা স্বামী আদৌ তাকে ভালোবাসে কি না? কাজেই স্ত্রীকে সত্যিকার অর্থে ভালবাসুন এবং সেটা স্ত্রীকে বুঝার সুযোগ করে দিন ।

৩) তার সাথে খোলামেলা আলোচনা করুনঃ

যদি আপনি বুঝতে পারেন কোন ছেলে হোক সেটা আপনার বন্ধু বা প্রতিবেশী আপানর স্ত্রী প্রতি দুর্বল বা আপনার স্ত্রী তার প্রতি দুর্বল তাহলে এটা চেপে না রেখে স্ত্রীর সাথে খোলামেলা কথা বলুন । এবং বাজে কিছু যাতে না ঘটে সে ব্যাপারে তাকে সাবধান করে দিন । বা যদি স্ত্রী পরকীয়া সম্পর্কে জড়িয়ে যায়ও এ নিয়ে তার সাথে খোলামেলা কথা বলুন । তাকে দ্রুত ফেরান । হোক সেটা মৃদু শাসন বা ভালোবাসার মাধ্যমে ।

৪) স্ত্রীর চাওয়া- পাওয়ার মূল্যায়ন করুনঃ

প্রেমিকা হিসাবে একটা মেয়ে একজন প্রেমিকের কাছে যেমন মূল্যায়ন পায় । স্ত্রী হিসাবে কিন্তু স্বামীর কাছ থেকে অধিকাংশ স্ত্রী সেরকম মূল্যায়ন এবং মর্যাদা পায় না । এমনকি বিয়ের আগে যে পুরুষ প্রেমিক ছিল তার সাথে বিয়ের পর সেই পুরুষও কিন্তু স্বামী হিসাবে পূর্বের প্রেমিকা যে এখন স্ত্রী তাকে সেভাবে মূল্যায়ন বা মর্যাদা করে না । তাই তো প্রমের বিয়ে অনেক ক্ষেত্রে সেভাবে টিকে না । হয়তো পুরুষের স্বেচ্ছাচারিতা বা বিয়ের পরে বদলে যাওয়া আচরণের কারণে । তাই স্ত্রীকে পরকীয়া থেকে বাঁচাতেই শুধু না সুন্দর, সুষ্ঠু দাম্পত্য জীবন এবং শান্তিপূর্ণ সংসার পেতে স্ত্রীর চাহিদার মূল্যায়ন করুন ।

৫) স্ত্রীর গতিবিধির উপর খেয়াল রাখুনঃ

স্ত্রীর গতিবিধির উপর খেয়াল রাখবেন মানে এমন না যে সারাক্ষণ তার পিছনে গোয়েন্দাগিরি করবেন । তার সব কিছুতে সন্দেহের দৃষ্টি ছুঁড়বেন , বরং তা না করে স্ত্রী কোথায় যায়? কার সাথে মেশে? আপনার বাসায় কে আসে? এসব বিষয়ে কৌশলে খবর রাখুন তাহলে দেখবেন স্ত্রী পরকীয়ায় জড়ানোর আগেই তাকে সে জঘন্য বিষয় থেকে ফেরাতে পারবেন ।

৬) তাকে শালীনতার শিক্ষা দিনঃ

অনেক স্বামীই আছে দেখা যায় বিয়ের পর নতুন বউকে অকারণে যখন তখন নিজের বন্ধু, কাজিন যেমন মামাতো ভাই, খালাতো ভাই, নিজের ভাই এদের কাছাকাছি ঠেলে দেয় । স্ত্রীর আপত্তি থাকার সত্ত্বেও যখন তখন নিজের ঘনিষ্ঠ বন্ধুদের বাসায় আশার পরিবেশ তৈরি করে দেয় । এমনকি নিজের অনুপস্তিতিতেও । প্রথম প্রথম অনেক স্বামী ও তার পরিবার একটু মেশার জন্যই পীড়াপীড়ি করে । ভাবে এটুকু মেশায় কি এমন ক্ষতি । বরং বউ সোশ্যাল হয়ে উঠবে । যেসব শালীন মেয়ে ধর্মীয় বা স্বভাবগত কারণেই স্বামীর এমন বন্ধু ও কাজিনের সাথে মিশতে চায়না তাদেরকে কোন কোন স্বামী বা তার পরিবার আন কালচারড, আন সোশ্যাল বলে আখ্যায়িত করে । স্ত্রীকে নিজের বন্ধু, কাজিন, প্রতিবেশী পুরুষ, তার এক্স বয়ফ্রেন্ড (যদি বিয়ের আগে তার কোন প্রেমিক থেকে থাকে) থেকে দূরে রাখুন । আর তাদের সামনে যদি বিশেষ প্রয়োজনে যেতেও হয় তবে সেক্ষেত্রে অবশ্যই শালীনভাবে উপস্থাপিত হতে সহায়তা করুন । কারণ সাধারণত স্ত্রীদের পরকীয়া দূরের, রাস্তার কারও সাথে হয় না । উপরে উল্লেখিত শ্রেণীর পুরুষদের সাথে হবার সম্ভাবনাই বেশী ।

৭) স্ত্রীর যৌন চাহিদা পূরণ করুনঃ

অনেকেই হয়তো এমন কথায় হেসে উঠবেন স্ত্রীর যৌন চাহিদা পূরণ করুন । এ আবার কি কথা? নিজের যৌন চাহিদা পূরণ করার সময়ই তো স্ত্রীর চাহিদাও পূরণ হবার কথা । কিন্তু দিব্য দৃষ্টিতে তাই মনে হলেও বিষয়টার সমাধান কিন্তু এমন সজা-সাপটা কথায় দেয়া সম্ভব না । বাংলাদেশী নারীরা সাধারণত লাজুক প্রকৃতির তাই নিজের চাহিদা মিটে কি না? বা মিটাতে চাইলেও সেটা কিভাবে মেটাবে স্বামী সেটা তারা হয়তো লজ্জায় বলতে চায়না । স্বামী যখন যেচে নিজের চাহিদা মিটাতে স্ত্রীর কাছে আসে তখনই কেবল স্ত্রী চাহিদা মেটানোর আশা রাখে । নিজে থেকে খুব কম স্ত্রী স্বামীর প্রতি যৌন আকাঙ্ক্ষা নিয়ে এগিয়ে যায় । আর যেহেতু নারী নিজের চাহিদা সেভাবে দেকাহ্য না তাই স্বামীও সেভাবে কোন সিস্টেম ফলো না করে স্ত্রীর দেহ ব্যবহারের মাধ্যমে নিজের চাহিদা পূরণ করে নেয় । সে সময় স্ত্রীর চাহিদা পূরণে অপূর্ণতা থাকলো কি না? বা স্ত্রীর চাহিদা পূরণ না হলেও তার চাহিদা কিভাবে পূরণ করা সম্ভব এই দিক টা বিবেচনায় নেয় না । কাজেই নিজের যৌন চাহিদা পূরণের সময় স্ত্রীর যৌন চাহিদাও সম্পূর্ণ রূপে পূরণ করার চেষ্টা করুন । না করতে পারলেও আপনি যে চেষ্টা করছেন আপনি যে তাকে অনেক ভালোবাসেন সেটা স্ত্রীকে ভালভাবে বুঝিয়ে দিন । দেখবেন দৈহিক চাহিদার অপূর্ণতা থাকলেও আপনার অকৃতিম ভালোবাসার কারণেই পরকীয়ায় আসক্ত হবে না বা আসক্ত হলেও ফিরে আসবে আপনার ভালোবাসা, সন্তান ও সংসারের প্রতি খেয়াল রেখে ।

পরিশেষে বলতে চাই যে স্বামী স্ত্রীর সম্পর্ক প্রেম-ভালবাসা ও বোঝা পড়ার সম্পর্ক । কাজেই বিয়ের মাধ্যমে বন্ধনে আটকে গেছে বলেই যে এটা কাঁঠালের আঠার মতো আটকে রাখবে ভালোবাসার বন্ধন সারাক্ষণ এমন ভাবা বোকামি । একবার বিয়ে করেই এই সম্পর্ককে শুধু ছেড়ে দিলেই হবে স্রোতের দিকে । বরং একে লালন করতে হবে উভয়কেই ।

সূত্রঃ মহীয়সী

About sudip

Check Also

শীতকালে পা ফাটা রোধের উপায়

শীতকালে আরও অনেক সমস্যার পাশাপাশি পা ফাটা নিয়েও ঝামেলায় পড়েন অনেকেই। ফাটা পায়ে জ্বালা-পোড়া আর ...

One comment

  1. What a data of un-ambiguity and preserveness of valuable know-how regarding
    unexpected feelings.

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *