বর্তমানে আমরা অনেক লোকের মুখেই শুনে থাকি রাতে ভাল ঘুম হয়না বা মাঝ রাতে ঘুম ভেঙ্গে যা আর ঘুম আসে না এমন কত কিছু । অনিদ্রা চলতি সময়ের অন্যতম বড় সমস্যা। কাজের চাপ, মানসিক অস্থিরতার কারণে অনিদ্রা সমস্যা হয়ে দেখা দেয় জীবনে। আর তার প্রভাবেই ক্রমাগত বাড়তে থাকে অন্যান্য শরীরিক সমস্যা। ডায়বেটিস, ওজন বাড়ার মতো সমস্যা প্রধান কারণ অপর্যাপ্ত ঘুম। ভাল ঘুমের জন্য রইল কিছু টিপস-
১। রুটিন মেনে চলুন
রাতে নির্দিষ্ট সময়ে ঘুমোতে যাওয়া ও প্রতিদিন সকালে নির্দিষ্ট সময়ে ঘুম থেকে ওঠার অভ্যাস রাখলে স্বাভাবিক ভাবেই ঘুম হবে ভাল। সেইসঙ্গেই খাওয়া দাওয়া ও দিনের অন্য কাজও যদি কিছুটা নিয়ম মেনে করেন তবে রাতে ঘুমও আসবে নিয়ম মেনে। ভাল ঘুমের জন্য এই নিয়মগুলো প্রতিদিন মেনে চলুন।
২। ডায়েট
খাদ্য তালিকায় স্বাস্থ্যকর খাবার রাখার পাশাপাশি চেষ্টা করুন খালি পেটে বা বেশি ভরা পেটে শুতে না যাওয়ার। অধিকাংশ শারীরিক ও মানসিক সমস্যারই প্রধান কারণ অনিয়মিত ও অস্বাস্থ্যকর খাওয়া দাওয়া। এছাড়াও ডায়েটে বেশ কিছু খাবার রাখলে ঘুম আসবেও তাড়াতাড়ি, হবেও ভাল। চেষ্টা করুন ভাত, চিজ, আমন্ড, লেটুস, টুনা ফিশ, স্যালমন, চেরি, ফলের রস জাতীয় খাবার খাদ্য তালিকায় রাখতে।
৩। এড়িয়ে চলুন
কফি, নিকোটিন, অ্যালকোহল জাতীয় জিনিস এড়িয়ে চলুন। এইসব জিনিস ভাল ঘুমের অন্তরায়।
৪। আরামদায়ক বিছানা
হাত, পা ছড়িয়ে, ভাল বিছানায়, আরামদায়ক বালিশ, তোষকে ঘুম হবে ভাল। তাই শোওয়ার ঘর পরিষ্কার ও গোছানো রাখার পাশাপাশি চেষ্টা করুন ছড়ানো ও আরামদায়ক বিছানায় ঘুমনোর।
৫। রাতে ল্যাপটপ, মোবাইল থেকে বিরতি নিন
রাতে ঘুমাতে যাওয়ার এক ঘণ্টা আগে ল্যাপটপ, মোবাইলের মতো যন্ত্রের ব্যবহার বন্ধ করে দিন। রাত জেগে ট্যাব, ল্যাপটপ, ডেস্কটপ, মোবাইলে সময় কাটালে তা শরীরের ওপর প্রভাব ফেলে এবং ঘুম নষ্টের কারণ হতে পারে।
৬। পেটে খালি রাখবেন না
খালি পেটে কখনো শুতে যাবেন না। আবার রাতে গুরুপাকও খাবেন না। ভরা পেটে শুতে যাওয়া ঠিক নয়। ঘুমাতে যাওয়ার বেশ কিছু আগেই রাতের খাবার খেয়ে নিন।
৭। ঘুমানোর আগে এক গ্লাস দুধ
দুধে থাকে ট্রিপটোফ্যান যা আপনাকে ঘুমাতে সাহায্য করবে। তাই শোয়ার আগে এক গ্লাস দুধ খেতে পারেন। দুধ খুব বেশি গরম না হওয়া ভালো।
৮। ক্লান্তি ঝেড়ে ঘুমাতে যান
রাতে ঘুমাতে যাওয়ার আগে গোসল করে নিতে পারেন। যদি গোসল করা সম্ভব না হয় ঘাড়, মুখ, হাত-পা পানি দিয়ে ধুয়ে মুছে নিতে পারেন। এতে ক্লান্তি দূর হতে পারে। ঘুমাতে যাওয়ার সময় সারা দিনের ক্লান্তি, উত্তেজনার কারণগুলো মাথা থেকে ঝেড়ে ফেলুন।
৯। অসময়ে ঘুমাবেন না
অনেকেই ঘুমের জন্য সময়-অসময় মেনে চলেন না বলে রাতের ঘুম ঠিকমতো হয় না। দুপুরে লম্বা সময় ঘুমাবেন না। বিশেষজ্ঞরা বলেন, দুপুরের ঘুম আপনার শুধু কর্মক্ষমতাই কমাতে পারে, আপনার রাতের ঘুমও নষ্ট করে।
১০। ওষুধকে না বলুন
রাতে ঘুম এলে অন্য চিন্তা বাদ দিয়ে ঘুমিয়ে পড়ুন। ঘুমাতে যাওয়ার আগে সিগারেট, তামাক, চা, কফি না খাওয়াই ভালো। দুই-এক দিনের ঘুম না হওয়াতেই দুশ্চিন্তাগ্রস্ত হবেন না। ঘুম না হলে চিকিত্সকের পরামর্শ ছাড়া ঘুমের ওষুধ সেবন করবেন না।
Health Tips Doc Your Online Doctor