সম্প্রতি একটি উদ্বেগজনক সমীক্ষা বের হয়েছে, এতে দেখা যাচ্ছে প্রতি ৬৮ জন বাচ্চার মধ্যে ১ জন বাচ্চা অটিজমে আক্রান্ত। এটি একটি স্নায়বিক ও বুদ্ধিবৃত্বিক বিকাশ গত সমস্যা যার নির্দিষ্ট কারণ এখনো প্রমাণিত নয়, তবে গবেষণা নির্দেশ করছে পরিবেশ দূষণ, ভেজাল খাদ্য (টক্সিক মেটাল, কীটনাশক, প্রিজারভেটিভ ইত্যাদি মেশানো), টিকা-র পার্শ্বপ্রতিক্রিয়া, বংশগতি ইত্যাদি অটিজমের পেছনে ভুমিকা পালন করে থাকে।
কিভাবে বুঝবেন শিশুর বিকাশে সমস্যা আছে কিনা
সাধারণত ১৮ মাস থেকে ২ বছর বয়সের মধ্যে মা বাবা বাচ্চার আচরণে অস্বাভাবিকতা বা সাধারণের চেয়ে ভিন্ন বলে ধরতে পারেন। এর মধ্যে রয়েছে, অন্য একই বয়সের বাচ্চাদের চেয়ে খেলার আগ্রহে ভিন্নতা, সামাজিক মেলামেশা যেমন কথা বলা বা ভাব প্রকাশ করার ভিন্নতা ইত্যাদি।
কিছু কিছু বাচ্চা আবার ১ থেকে ২ বছর বয়স পর্যন্ত খেলাধুলা কথা বলা সব ঠিক থাকে কিন্তু হঠাৎ করে কথা বলা ও সামাজিক মেলামেশা বন্ধ করে দেয়। এটাকে বলা হয় রিগ্রেসিভ অটিজম। তবে নিচের বিষয় গুলোর ব্যত্তয় ঘটলে বা করতে না পারলে অবশ্যই আপনাকে সতর্ক হতে হবেঃ
বার মাস বয়সের মধ্যে হাত দিয়ে বিভিন্ন দিকে নির্দেশ করা, টাটা করা ইত্যাদি
বার মাস বয়সের মধ্যে মুখ দিয়ে বিভিন্ন শব্দ যেমন বু বু, মা মা ইত্যাদি শব্দ করা
চব্বিশ মাস বয়সের মধ্যে অন্তত দুটি অর্থবোধক শব্দ একসাথে বলা
ষোল মাস বয়সের মধ্যে অন্তত একটি করে অর্থবোধক শব্দ বলা
এছাড়া যে কোনো বয়সে যদি বাচ্চা কথা বলা বা সামাজিক মেলামেশা বন্ধ করে দেয়, কোনো শারীরিক মুভমেন্ট বার বার করে, চোখে চোখ রেখে ভাব বিনিময় না করে, তাহলে সাথে সাথে বাচ্চাকে বিশেষজ্ঞের কাছে নিয়ে যেতে হবে।
এমন হলে কি করবেন ?
যদি বাচ্চার বয়স ১৮ মাস এর বেশি এবং ৩ (তিন) বছরের কম হয়, তাহলে তাকে প্রথমে অটিজম হবার সম্ভাব্যতা নিরূপণ করতে হবে। এজন্য বিভিন্ন অ্যাসেসমেন্ট টুল ব্যবহার করা হয়, এবং অটিজম হবার সম্ভাব্যতা থাকলে সেই অনুযায়ী আর্লি ইন্টারভেনসন প্রোগ্রাম ডেভেলপ করা হয় যাতে বাচ্চার অটিস্টিক আচরণ প্রকাশ পেতে বাধা পায় এবং তার স্নায়বিক বিকাশ ঠিক মত হয়।
যদি বাচ্চার বয়স ৩ (তিন) বছরের বেশি হয়, তাহলে তার অটিজম আছে কিনা বা থাকলে তার মাত্রা কত তা নিরূপণ করতে হয়। এর জন্য ও আলাদা অ্যাসেসমেন্ট টুল ব্যবহার করা হয় এবং অটিজম এর মাত্রা অনুযায়ী বাচ্চার জন্য ইন্টারভেনসন প্রোগ্রাম ডেভেলপ করা হয়।
চিকিৎসা ব্যবস্থা
এ ধরনের বাচ্চার জন্য অনেক ধরনের সেবার প্রয়োজন হয়। তার মধ্যে ‘সেন্সরি ইন্ট্রিগেসন’ অন্যতম। এই সেবা পেতে ‘সেন্সরি ইন্ট্রিগেসন’ এ দক্ষ একজন অকুপেশনাল থেরাপিস্টের শরণাপন্ন হতে হবে। বাচ্চার যদি কথা বলতে সমস্যা থাকে তবে তাকে অটিজম বিষয়ে দক্ষ একজন স্পিচ থেরাপিস্টের কাছে যেতে হবে।
বাচ্চার শরীরে অনেক সময় ফ্রি-রেডিকেল, টক্সিক মেটাল (লেড, মার্কারি ইত্যাদি) এর আধিক্য দেখা যায় এবং যার ফলে বাচ্চার মানসিক বিকাশ বাধাগ্রস্থ হয়। এধরনের ক্ষেত্রে বায়ো-মেডিক্যাল চিকিৎসা নিয়ে অনেক অটিস্টিক বাচ্চার প্রভূত উন্নতি সাধিত হয়। অনেক বাচ্চার জন্য সাইকো থেরাপি, বিহেভিয়ার মডিফিকেসন ইত্যাদি প্রয়োজন পড়ে।
শিশুর সুস্থ্য স্বাভাবিক বিকাশে অটিজম একটা প্রধান অন্তরায়। তাই সময় থাকতে সচেতন হোন। আপনার শিশুকে অটিজম এর হাত থেকে রক্ষা করুন ।
Health Tips Doc Your Online Doctor