বর্তমান সময়ে উচ্চ রক্তচার বা হাই ব্লাড পেশার একটা সাধারন কিন্তু বিপদজনক সমস্যায় পরিনত হয়েছে । দিন দিন এর মাত্রা বেড়েই চলেছে । উচ্চ রক্তচাপ একটা নিরব ঘাতক কারন এর উপসর্গ সহজে ধরা যাই না। যখন বুঝতে পারেন তখন হার্ট-অ্যাটার্ক, স্ট্রোক, কিডনি বিকল হয়ে যাওয়া, দৃষ্টি শক্তি কমে যাওয়ার সম্ভাবনা অনেক বেশি থাকে। এটা নিরবে মানুষের হৃদপিন্ডের ক্ষতিসাধন করে থাকে । চলুন জেনে নিই উচ্চ রক্তচাপে করণীয় কি এবং এর থেকে রক্ষা পাবার উপায় কি ।
উচ্চ রক্তচাপের পেছনে যে করনগুলো আছে এগুলো হচ্ছে-
- ওজন অতিরিক্ত বেড়ে যাওয়া
- পরিবারের কারো উচ্চ রক্তচাপ থাকলে
- অতিরিক্ত মাত্রায় লবণ খেলে
- শাকসবজি না খেলে
- হাঁটা-চলা বা ব্যায়াম নিয়মিত না করলে
- চা, কপি অতিরিক্ত মাত্রায় পান করলে
- অতিরিক্ত মাত্রায় অ্যালকোহল পান করলে
- বয়স ৬৫ বছরের বেশি হলে
এখন ২০ বা ৩০ বছরের লোকদেরও এই রোগে আক্রান্ত হতে দেখা যায়। যেখানে আগে দেখা যেত ৪০ বছরের পরের ব্যক্তিরা সাধারণত এই রোগে আক্রান্ত হচ্ছে। তবে জীবন যাপনের কিছু ধরন মেনে চললে উচ্চ রক্তচাপকে বহুলাংশে কমানো সম্ভব। চলুন দেখে নিই উচ্চ রক্তচাপে করণীয় । গ্যাস্ট্রিক সমস্যা থেকে মুক্তির উপায় গুলো জানতে পারেন ।
ভাল ও স্বাস্থ্যকর ডায়েট
উচ্চরক্তচাপ নিয়ন্ত্রণে একটি স্বাস্থ্যকর ডায়েট পালন করা খুবই জরুরি। ডায়াটারি অ্যাপ্রোচেস টু স্টপ হাইপারটেনশন (ড্যাশ) বা রক্তচাপ নিয়ন্ত্রণে বিশেষ উপায়ে খাদ্যাভ্যাস পালন খুব জরুরি। ড্যাশ ডায়েটে তাজা সবজি, ফল, ননিহীন দুগ্ধজাতীয় খাবার, মাছ, ভূসি বা ভূসি সমেত খাবার, মুরগি এবং বাদাম থাকতে হবে। লাল মাংস, মিষ্টিজাতীয় খাবার এবং মিষ্টি এড়িয়ে যেতে হবে। এই ডায়েটে থাকবে উচ্চ পরিমাণ ক্যালসিয়াম, ম্যাগনেসিয়াম, পটাশিয়াম, প্রোটিন এবং আঁশ। চর্বিজাতীয় খাবার এড়িয়ে চলতে হবে।
মানসিক চাপ কমান
মানসিক চাপ এবং উচ্চ রক্তচাপের সরাসরি যোগসূত্র আছে। আধুনিক দিনের বিরক্তিকর জীবন যাপন, লম্বা কাজের সময়, দ্রুত সম্পর্কের ভাঙন- এসবের কারণে এক ধরনের চাপ সব সময় থাকে। বিনোদনের জন্য কোনো অবসরই পাওয়া যায় না। প্রত্যেকেই ভীষণ ব্যস্ত সময় পার করেন। তাই চাপ নিয়ন্ত্রণে রাখার উপায় শেখা খুব জরুরি। কেননা এটিও বাড়িয়ে দিতে পারে উচ্চ রক্তচাপ। তাই গভীর শ্বাসপ্রশ্বাসের ব্যায়াম, নিজেকে সময় দেওয়া, সামাজিক যোগাযোগ বাড়ানো, ইয়োগা এবং মেডিটেশনের মাধ্যমে চাপ নিয়ন্ত্রণ করতে হবে।
ব্যায়াম করুন
নিয়মিত ব্যায়ামের প্রশিক্ষণ রক্তচাপ নিয়ন্ত্রণে কার্যকরী। ব্যায়াম হচ্ছে সুস্থ ও নিরোগ থাকার কার্যকরী উপায় । যদি কারো প্রি হাইপারটেনশন থাকে (সিস্টোলিক চাপ ১২০ থেকে ১৩৯ মিলিমিটার অব মার্কারি এবং ডায়াস্টোলিক চাপ ৮০ থেকে ৮৯ মিলিমিটার অব মার্কারি) তবে নিয়মিত ব্যায়াম উচ্চরক্তচাপ কমাতে বেশ সাহায্য করে।
লবণ কম খাবেন
উচ্চ রক্তচাপে করণীয় গুলোর মধ্যে লবন কম খাওয়া অন্যতম । খাবারে বাড়তি লবণ বা কাঁচা লবণ ব্যবহার করা যাবে না। তাই খাবার রান্নার সময়ই যতটুকু লবণ লাগে ব্যবহার করুন। চর্বিযুক্ত এবং অতিরিক্ত লবণযুক্ত খাবার একেবারেই বাদ দিতে হবে। সোডিয়ামের গ্রহণ রক্তচাপকে বাড়িয়ে দেয়।
নেশা পরিহার করুন
মদ ও ধূমপানের সঙ্গে উচ্চ রক্তচাপের সরাসরি যোগাযোগ রয়েছে। মদ্যপায়ী এবং চেইন ধূমপায়ীদের এই রোগে বেশি আক্রান্ত হওয়ার প্রবণতা রয়েছে। তাই উচ্চ রক্তচাপ কমাতে অবশ্যই এগুলো বাদ দিতে হবে।
পরামর্শ:
উচ্চ রক্তচাপের ফলে হৃদযন্ত্রের কার্যক্রম হ্রাস পাওয়া, হৃদযন্ত্রের ক্রিয়া সাময়িক বা স্থায়ীভাবে বন্ধ হওয়া, মস্তিষ্কের ক্রিয়া বন্ধ হওয়া বা মস্তিষ্কে রক্তক্ষরণ হওয়া এধরনের সমস্যা হয়ে থাকে। একে নীরব ঘাতকও বলা হয়। তাই নিয়মিত রক্তচাপ মাপা খুব জরুরি। এর ফলে আগে থেকেই আপনি বিভিন্ন রোগ সম্পর্কে সতর্ক থেকে প্রতিরোধ করতে পারবেন।
Health Tips Doc Your Online Doctor
2 comments
Pingback: ডাবের পানির ১০ উপকারিতা | Health Tips Doc
Pingback: ডাবের জলের ১০ উপকারিতা | Health Tips Doc