প্রত্যেক মেয়েই চাই গোলাপী ও সুন্দর ঠোঁট। কারন নারীর সৌন্দর্যের অন্যতম গুরুত্বপুর্ন অঙ্গ হল তার ঠোট । সুন্দর ঠোট তাকে করে তোলে আরো সুন্দর। তাই সব মেয়েরাই তার ঠোটকে আরো গোলাপী করে তুলতে কত কিছুই না করে থাকে ।তারা ঠোঁটে বিভিন্ন প্রকার প্রসাধনী ব্যবহার করে যা তাদের ঠোটকে গোলাপী উজ্জ্বল এবং আরও সুন্দর করে তুলে। অনেক প্রসাধনী যেমন লিপস্টিক ও লিপ গ্লোস ঠোঁটকে শুষ্ক এবং গাঢ় করে তোলে। সেজন্য ভাল হয় প্রাকৃতিকভাবে ঠোটকে গোলাপী ও সুন্দর করে তোলা। চলুন জেনে নিই তেমন কিছু উপায় ।
১ লেবুর ও মধুর প্যাক
লেবুর ও মধুর রসের দুটোই ঠোটের জন্য খুব ভাল। তাই লেবু ও মধু দিয়ে মিশ্রণ তৈরি করুন এবং ফ্রিজ়ে এটি ১০ মিনিট রেখে দিন। প্রতিদিন ২ থেকে ৩ বার আপনার ঠোঁটে এই মিশ্রণটি প্রয়োগ করুন এবং এক ঘন্টা লাগিয়ে রাখুন। এরপর ঠান্ডা জ়ল দিয়ে ধুয়ে ফেলুন।এটা ঠোটকে আগের চেয়েও বেশী গোলাপী করতে সাহায্য করে।
২ পানি পান করুন
পর্যাপ্ত পানি পান করুন। পানি শুষ্ক ঠোঁটের অন্যতম প্রতিকার। পানি এবং ডিহাইড্রেসনের কারনে কালো এবং শুষ্ক ঠোঁট হয়। বেশী বশি পানি পান করে শরীরকে আরও সতেজ রাখুন । জানতে পারেন নখ সুন্দর রাখার উপায় ।
৩ গোলাপের ব্যবহার
গোলাপী ও সুন্দর ঠোঁট পেরে গোলাপ ব্যবহার করতে পারেন। গোলাপ আপনার ত্বককে শীতল এবং ময়শ্চারাইজিং করতে সাহায্য করে। এটি আপনার ঠোঁটের রঙকেও উন্নত করে।
কিভাবে ব্যবহার করবেন? একটু পানির মধ্যে কিছু গোলাপের পাপড়ি নিন। সাথে অল্প পরিমাণ মধু যোগ করুন এবং তা পেষ্ট করুন। এবার তা আপনার ঠোঁটে প্রয়োগ করুন। প্রতিদিন তিনবার এই পদ্ধতি ব্যবহার করলে অবশ্যই আপনি ভাল ফলাফল পাবেন।
এছাড়া গোলাপের পাপড়ির পেষ্ট, মধু এবং মাখন (১ টেবিল চামচ প্রতিটি) দিয়ে মিশ্রণ তৈরি করুন। এই মিশ্রণটি সপ্তাহে ২ থেকে ৩ বার আপনার ঠোঁট ব্যবহার করুন।
গোলাপ কিছু পাপড়ি কাঁচা দুধে ভিজিয়ে রাখুন। ১ এক ঘণ্টা পর এই পাপড়ির পেষ্ট, ১/২ টেবিল চামচ মধু এবং কিছু জাফরান নিয়ে একটি মিশ্রণ তৈরি করে তা আপনার ঠোঁটের প্রয়োগ করুন এবং এটি ১৫মিনিটের জন্য রেখে দিন। পরে পানি দিয়ে ধুয়ে ফেলুন।
৪ বীট–পালং বা বীটরুট
গোলাপী ও সুন্দর ঠোঁট পেতে বীটরুট হচ্ছে সবচেয়ে ভাল ও সবচেয়ে সহজ পদ্ধিতি। আপনার ঠোঁটে এক টুকরা ধোয়া বীট গাছ রুট লাগান। ৫ মিনিটের জন্য এটা রাখুন । কিছু সময়ের জন্য এটি রেখে দিন এবং একটু পরেই দেখবেন আপনার ঠোট বীটরুটের সব রস শোষণ করে নিবে। এর ফলে আপনার ঠোঁটের রং আরও গোলাপী হবে।
৫ লেবুর ব্যবহার
লেবু কালো ঠোঁটের জন্য সবচেয়ে কার্যকর ভেষজ প্রতিকারক হিসাবে ব্যবহার করা হয়। এটা প্রাকৃতিক পরিষ্কারক এজেন্ট হিসাবে কাজ কর। ত্বকের গাঢ় দাগ এবং ত্বককে মসৃণ করতে ব্যবহার করা হয়। ঠোঁটে লেবুর রস প্রয়োগ করার ফলে আপনার ঠোঁট হালকা হবে। ভাল ফলের পেতে কয়েক মাস এই পদ্ধতি অনুসরণ করুন। চোখের চারপাশের কাল দাগ দূর করার কৌশল জানতে পারেন ।
কিভাবে ব্যবহার করবেন? এক টুকরা লেবু আপনার ঠোঁটে ঘসা-মাজা করতে পারেন। লেবুতে কিছু চিনি ছিটিয়ে নিলে এটি আরো কার্যকর হবে। ২ থেকে ৩ সপ্তাহের জন্য এই পদ্ধতি অনুসরণ করতে পারেন। এছাড়াও ঠোঁটকে আরও আকর্ষণী এবং সুন্দর করার জন্য লেবুর রস, (প্রতিটি টেবিল চামচ ১/২) মধু এবং গ্লিসারিন দিয়ে ভাল একটি মিশ্রণ তৈরি করে নিয়মিত ব্যবহার করতে পারেন।
৬ চিনি
গোলাপী ও সুন্দর ঠোঁট পেতে চিনি ব্যবহার করতে পারেন । চিনি আপনার ঠোঁট থেকে সব মৃত ত্বক কোষ অপসারণে সাহায্য করতে পারে। যার ফলে মৃত ও কালো কোষগুলো চলে গিয়ে ঠোট গোলাপী দেখাবে ।
কিভাবে ব্যবহার করবেন ?
দস্তার চিনি (৩ টেবিল চামচ) এবং মাখন (২ টেবিল চামচ) এর একটি মিশ্রণ তৈরি করুন। এটি ঠোঁটে আলতো করে লাগান এবং. সপ্তাহের একবার করে তিন মাস ব্যবহার করলে অবশ্যই ভাল প্রতিকার পাবেন।
এছাড়া মধু (১ টেবিল চামচ) এবং বাদাম তেলের (১/২ টেবিল চামচ) সঙ্গে চিনি (১ টেবিল চামচ) মিশিয়ে একটি ভাল মিশ্রণ তৈরি করতে পারেন। এই মিশ্রণটি ব্যবহারের ফলে আপনার ঠোঁট নরম এবং পাতলা হবে। প্রতি সপ্তাহে এই একই পদ্ধতি অনুসরন করুন।
৭ মধু
মধু আপনার ঠোঁটকে গোলাপী ও সুন্দর ঠোঁট করতে পারে।
এটা খুবই সহজে করতে পারেন। প্রতি রাতে আপনার ঠোঁটে সামান্য পরিমাণ মধু লাগান। খেয়ে ফেলবেন না আবার। সকালে কিছু গরম পানি ব্যবহার করে ধুয়ে পরিষ্কার করে ফেলুন। এই পদ্ধতিটি আপনার ঠোঁটের রঙ হালকা করবে।
তাছাড়া ময়দা, মধু এবং দইয়ের একটি মিশ্রণ (প্রতিটি ১/২ টেবিল চামচ) তৈরি করুন এবং আপনার ঠোঁটের উপর এই মিশ্রণ প্রয়োগ করে আধা ঘন্টার জন্য রেখে দিন। তারপর গরম পানি দিয়ে ধুয়ে ফেলুন। কাঙ্ক্ষিত ফলাফল পেতে এটি নিয়মিত অভ্যাস করুন।
মেনে চলবেন -
মেনে চলুন রাতের বিউটি টিপস।
কখন অকারনে জোরে জোরে ঠোট ঘোষবেন না । সর্বদা আলতো করে ঠোঁট ঘোষবেন। জোরে জোরে ঠোঁট ঘোষলে চামড়ার ক্ষতি হতে পারে।
যতোটুকু পারেন ঠোঁটে glosses এবং lipsticks এড়িয়ে চলুন। এতে ক্ষতিকর ক্যামকেল থাকে যা ঠোটের জন্য খারাপ।
রাতে বিছানায় যাবার আগে আপনার ঠোঁট থেকে সব প্রসাধনী ধুয়ে ফেলুন।
ঠোট কখন জিভ দিয়ে ভেজাবেন না । প্রয়োজনে লিপজেল ব্যবহার করবেন ।
Health Tips Doc Your Online Doctor